রবীন্দ্রনাথ_ইতালি_ভ্রমণ_ও_মুসোলিনি
রবীন্দ্রনাথ_ইতালি_ভ্রমণ_ও_মুসোলিনি
বামাপদ গঙ্গোপাধ্যায় ।
কি এমন ঘটনা ঘটলো রবীন্দ্রনাথকে আবার ইউরোপ যেতে হলো? বিশ্বভারতী কে নতুন করে গড়বার জন্য নোবেল প্রাইজ পাওয়ার পর রবীন্দ্রনাথ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ঘুরে বেড়িয়েছেন এবং বক্তৃতা দিয়েছেন। বিদেশ ঘুরে যে অর্থ তিনি সংগ্রহ করেছিলেন সমস্ত অর্থ দান করে গিয়েছিলেন বিশ্বভারতীকে । রবীন্দ্রনাথের ১৯২৬ সালের ওই ইতালি সফর শুরু হয় জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে। সেটি ছিল তাঁর দ্বিতীয় ইতালি-দর্শন। এর আগে ১৯২৫ সালের জানুয়ারি মাসে তিনি ইতালি যান কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে বক্তৃতা দিতে। এবার যাচ্ছেন মুসোলিনির আমন্ত্রণে! সারা বিশ্ব যখন মুসোলিনিকে ফ্যাসিস্ট বলে আখ্যা দিচ্ছে, সেই সময় রবীন্দ্রনাথ যাচ্ছেন ইটালি? ১৯২৬ সালের ইতালি-সফরে সময় থেকে এখন পর্যন্ত রবীন্দ্রনাথ বিষয়ে আগ্রহীদের প্রশ্ন —রবীন্দ্রনাথ ফ্যাসিস্ট মুসোলিনির আমন্ত্রণে ইতালি গেলেন কেন? অনেকে বলে থাকেন, তিনি জানতেন না যে ইতালিতে তিনি মুসোলিনির অতিথি হতে চলেছেন! তিনি জানতেন না এটা একদম ঠিক বলে আমার মনে হয় না । ইতালির এই একনায়ক ১৯২২ সাল থেকে ১৯৪৩ সালে তার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পুর্ব পর্যন্ত সমগ্র রাষ্ট্রের ক্ষমতাধর ছিলেন। শুধু তাই নয় । মুসোলিনি দ্বিতীয় যুদ্ধের সময় জার্মান নায়ক এডল্ফ হিটলার- এর একান্ত বন্ধু । এডল্ফ হিটলার মুসোলিনিকে নানা ভাবে প্রভাবিত করেন। আমি মুসোলিনির বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে ভাবি এখানেই রবীন্দ্রনাথ এসেছিলেন ? ভালো করে দেখার জন্য ইন্স্যুরেন্সের ভবনের দেয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে দাঁড়িয়ে থাকি ।পৃথিবীর ব্যস্ততম শহরের মাথায় আমি দাঁড়িয়ে ।আমার বাঁ দিকে প্যালাজো ভেনিজিয়া। রোমের প্রথম রাজা ভিক্টর ইমমানুয়েল দ্বিতীয় স্মৃতির উদ্দেশ্যে রয়েছে বিরাট স্মৃতিভবন যার স্থাপত্যের ধরনটা টাইপরাইটারের মত ।আর দূরে দেখা যাচ্ছে কলোসিয়াম কে ।
' সেটা ১৯২৫। ওই বছরের শেষ দিকে ইতালি থেকে কার্লো ফারমিকি পড়াতে এলেন শান্তিনিকেতনে। সঙ্গে এলেন তরুণ অধ্যাপক জোসেফ তুচ্চি। দেখা গেল তাঁরা সঙ্গে নিয়ে এসেছেন বহু শত মূল্যবান ইতালীও বই। আর সেই বইগুলি রবীন্দ্রনাথকে পাঠিয়েছেন স্বয়ং মুসোলিনি। শুধু তাই নয় তুচ্চির বেতনও বিশ্বভারতীকে দিতে হল না। তাঁর যাবতীয় খরচ বহন করল ইতালির সরকার। কবি মুগ্ধ। শান্তিনিকেতন থেকে টেলিগ্রাম করে নিজে ধন্যবাদ জানালেন খোদ মুসোলিনিকে। ওদিকে ফারমিকি প্রচার শুরু করলেন মুসোলিনির ভারত প্রীতির কথা ।
এই সুযোগটা কাজে লাগলেন মুসোলিনি।
এবার কবি যাচ্ছেন ইতালি। তাঁকে আপ্যায়নের ভার নিয়েছেন স্বয়ং মুসোলিনি। রোমে কবিকে সম্মান দেওয়া হল। হাজির রইলেন মুসোলিনি। অন্য আরেক দিন তাঁর নির্দেশে রোমান সম্রাটদের সময়ে নির্মিত কলোসিয়ামে কবিকে সম্মান জানান হল। পঁচিশ থেকে তিরিশ হাজার লোক হাজির ছিলেন সেখানে। কবি তো আপ্লুত। মুসোলিনি আরো কয়েকদিন ইতালিতে থাকবার জন্য অনুরোধ করলেন। এর পর কবির বিশেষ অনুরোধে বেনেডেক্তো ক্রোচে-কে নেপলস থেকে এনে কবির সঙ্গে দেখা করানো হল। তখনও কবি জানেন না ফ্যাসি বিরোধী এই দার্শনিক কার্যত গৃহবন্দি। এর পর কবি এলেন ভিলেনুভ গ্রামে। এখানে একটি ভালো হোটেলে যে ঘরে কবি উঠলেন সেই ঘরেই দীর্ঘদিন থেকেছেন ভিক্টর হুগো। কবির মন ভরে গিয়েছে আনন্দে। কবি মুসোলিনির প্রশস্তি গাইতে শুরু করলেন। শুধু তাই নয় কবি শুরু করলেন ফ্যাসিস্ত প্রীতি দেখাতে। সেগুলি ইতালির কাগজ পত্রে ফলাও করে প্রকাশ পেতে থাকল।
কতো বড় ভুল যে করলেন এটা পড়ে বুঝতে পারলেন । এই ভুলটা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিলেন রোমা রোঁলা। রোঁলা তাঁকে আসল ঘটনা সব খুলে বললেন। সব শুনে অ্যানড্রুজকে দীর্ঘ চিঠি লিখলেন। সেই চিঠি ছাপা হল ম্যানচেস্টার গার্ডেনে। মুসোলিনির দলবল তাতে খেপে আগুন হয়ে গিয়ে শুরু করলেন প্রবল দাপাদাপি আর গালাগালি। অধ্যাপক তুচ্চিকে শান্তিনিকেতন থেকে সরিয়ে নেওয়ার হুকুম এলো ইতালি থেকে। সেই ঘটনা বিশ্বভারতী থেকে বিশ্ব দরবার ছড়িয়ে পড়েছিল। রাগে ঘৃণায় ১০ বছর বাদে রবীন্দ্রনাথ আঁকলেন উন্মাদ প্রায় রণ নায়ক মুসোলিনির একটি ছবি।
সে ছবি বিশ্বভারতী প্রকাশ করে ছিলো । যে চিঠি আজও প্রকাশ করল না বিশ্বভারতী সেটা হলো রবীন্দ্রনাথ মুসোলিনি কে একটি চিঠি লিখেছিলেন। ১৯৪২ সালে সে বিশ্বভারতী গ্রন্থনবিভাগ রবীন্দ্রনাথের চিঠিপত্রের কলমে প্রকাশ করে ফেলেছিল একবার। সে বই মাত্র কয়েক জনের কাছেই গিয়েছিলো । পরবর্তীকালে বিশ্বভারতী সে চিঠি আর প্রকাশ করেনি।
রবীন্দ্রনাথ মৃত্যুর কয়েক বছর পরে ১৯৪৫ সালে মুসোলিনি সুইজারল্যান্ডে পালাবার সময় তিনি কম্যুনিস্ট প্রতিরোধ বাহিনীর হাতে ধরা পড়েন এবং পরে তাকে হত্যা করা হয়। শুধু তাই নয় মৃত্যুর পর তার মৃতদেহ একটি পেট্রোল পাম্পের পোস্টে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল ।



Nice
ReplyDeleteThanks
DeleteDarun
ReplyDeleteধন্যবাদ
DeleteDarun laglo
ReplyDeleteThanks
Deleteবেশ সুন্দর লেখা।
ReplyDeleteThanks
DeleteDarun
ReplyDeleteThanks
Delete